গলাচিপায় পশুর হাটগুলোতে চাঁদাবাজীসহ অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ!

৭১বিডি২৪ডটকম | ক্রাইম রিপোর্টার;


গলাচিপায় পশুর হাটগুলোতে চাঁদাবাজীসহ অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ!


প্রশাসন নিরব দর্শক!

পটুয়াখালী: গলাচিপা উপজেলার কোরবানীর পশুরহাট গুলোতে সরকার বেঁধে দেয়া টোল উপেক্ষা করে গবাদিপশু প্রতি অতিরিক্ত হারে টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারারাদার পশু ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে টোলের নামে চাঁদা আদায় করছে। প্রতিটি হাটেই ইজারাদার হাটের দিন ৪ থেকে ৫ জনকে সাব-লিজ দিয়ে থাকেন। যা চাঁদাবাজিকে ত্বরান্বিত করে অথচ সাব-লিজ দেয়ার কোনো নিয়ম নাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন হাটগুলো মনিটরিং করছে এমন কি হাটগুলোতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে সে ব্যাপারে নজরদারী রাখছে বলে পুলিশ প্রশাসন থেকে জানা গেছে।

গলাচিপা উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। জানা গেছে, ইউনিয়নের হাটগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে থেকে আর পৌরসভার হাটগুলো ইজারা দেন পৌর মেয়র। উপজেলায় বর্তমানে ৪৩হাটের মধ্যে ২৮টি হাট ইজারা দেয়া হলেও বাকী গুলো খাস কালেকশন যা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন তহশিলদার আদায়ে করে থাকেন বলে একটি সূত্র জানায়।

এ দিকে, উপজেলায় উল্লেখযোগ্য হাট গুলো হল: গলাচিপা পৌরশহরের শ্যামলীবাগ এলাকার বেড়ীবাধের উপর, আমখোলা ইউনিয়নের আমখোলা বাজার ,বাদুরা হাট, রতনদী তালতলীর কাটাখালী বাজার, উলানিয়া বাজার, বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া, কলাগাছিয়া বাজার, পানপটি বাজার, গোলখালী ইউনিয়নের জুলেখা বাজার ও নলূয়াবাগী বাজার, গলাচিপা ইউনিয়নের পক্ষিয়া লঞ্চঘাট বাজার রয়েছে।

প্রতিটি হাটেই কোরবানীর বিপুল সংখ্যক গরু ও ছাগলের আমদানী শুরু হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম একটু বেশী হওয়ায় ক্রেতারা বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ক্রয় করার ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই করার ষ্টোচ করছে। বিভিন্ন পশুর হাটে ঘুরে দেখা গেছে, একটি মোটা তাজা গরু ৫০হাজার থেকে ৮০হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে তবে এ ধরণের ক্রেতার সংখ্যা বেশী বলে জানা গেছে।

ইজারাদার বাংলা সনের শেষের দিকে যখন বাজার ইজারা নেয় তখন কিছু শর্ত থাকে সেই সব শর্ত উপেক্ষা করে ইজারাদার অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। ইজারাদার কোন বাংলা সনের বৈশাখ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত টোল আদায় করে। বাজার ইজারা পেয়েই সাইনবোর্ড সাটানো কথা অথচ সে কোন সময়ই সাইনবোড টানাননি। গলাচিপা পৌরশহরে শনিবার হাট বসে। জানা গেছে, পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের টুটু গাজী জানান, পৌর শহরের বাজার থেকে কোরবানীর পশু ৭৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেছে ইজারাদারকে টোল দিতে হচ্ছে ১২শহ টাকা। সহকারী অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন জানান, ৫৬হাজার টাকায় পশু কিনতে গিয়ে ১হাজার টাকা হাসিলা দিয়েছি। গোলখালী গ্রামের ইসমাইল খন্দকার তার গরু বিক্রি করতে গিয়ে তার কাছ থেকে ইজারাদারের লোকজন ৪শত টাকা জোর করে নিয়ে গেছে।অথচ পৌরশহরের হাটে পৌর কর্তৃপক্ষ আদৌ কোন মনিটিং করছে না বলে একাধিক লোকে জানান। পানপট্টি বাজারে ক্রেতাদের কাছ থেকে গোট প্রতি ১৫শত টাকা টোল আদায় করছে বলে পানপট্টির আলাউদ্দিন চকিদার জানান। ঈদের আগ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজার গুলোতে দালালদের সেন্ডিকেট তৈরী করে এ ধরনের চাদাবাজী করবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার আইন শৃঙ্খলা সভায় এক সাংবাদিক বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভালো ভাবে দেখবে বলে সভায় জানানো হয়। এ দিকে ইউএনও অফিসের দাফতরিক দায়িত্ব প্রাপ্ত মো: নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।কোরবানীর পশুর হাটে গোট প্রতি কত আদায় করতে হবে তাও তিনি জানেন না।

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো; রেজাউল করিম জানান, পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায় করতে পারবেনা। তা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *