গলাচিপায় নিবন্ধনবিহীন ক্লিনিক-প্যাথলজি সেন্টারের ছড়াছড়ি

৭১বিডি২৪ডটকম | উপজেলা করেসপন্ডেন্ট;


গলাচিপা


গলাচিপা(পটুয়াখালী): গলাচিপা শহরে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে অনিয়মতান্তিকভাবে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে নিবন্ধনবিহীন অসংখ্য ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টার। সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে অবস্থিত এসব ক্লিনিকগুলোতে ভূয়া রির্পোট দেওয়ার অনেক অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন কোন করণীয় নেই।

জানা যায়, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব ক্লিনিক ও প্যাথলজি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেছে। উপজেলায় এ ধরনের অসংখ্য সেন্টার রয়েছে। এসব সেন্টারে ভূক্তভোগী গলাচিপা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মোঃ সাহেব আলী অভিযোগ করে জানান, তিনি সোমবার গলাচিপা সদর হাসপাতালে পায়ের জন্য ডাক্তার দেখালে তাকে কিছু টেস্ট করাতে বলেন। তিনি সদরে রুপনগরে মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে টেস্ট করান। ক্লিনিক ব্যবসায়ী রাজ্জাক এর প্যাথালজী মর্ডান ডায়গনষ্টিক সেন্টারে পায়ের এক্সরে ভুল রিপোর্ট দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ভুল রিপোর্টের কারনে আমার পায়ের ব্যান্ডেজ আরও একমাস রাখতে হবে। আমার মত এই রকম অনেক লোক ভুল রিপোর্ট নিয়ে যাচ্ছে অসহায় দরিদ্র লোকজন মর্ডান ডায়গনিষ্টক সেন্টার থেকে। সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা কমপ্লেক্সে গর্ভবর্তী মায়েরা ভর্তি হতে এলে সেখানকার কতিপয় অসাধু কর্মচারী ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে নির্ধারিত অঙ্কের চুক্তিতে দালালি করে গ্রামের সহজ সরল গর্ভবর্তী মাকে, গরিব লোকদেরকে নিয়ে ক্লিনিকগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সেস্ট করানো হয়। অথচ সরকার বিনামূল্যে হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গর্ভর্তীর মায়েদের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে যাবতীয় ওষুধ পত্র সরবরাহ করছে। সেইসঙ্গে গর্ভবর্তী মাকে যাতায়াত ভাতা ও থাকা খাওয়ার টাকা দেওয়া হয়।

কিন্তু এসব ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টারের ভাড়া করা দালালদের কারণে গ্রাম্য রোগীসহ সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

বিভিন্ন ক্লিনিকে ঘুরে দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ স্বত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের অথের্র বিনিময়ে ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধন দিয়েছে। অনেক সেন্টারের নিবন্ধন থাকলেও সেখানে সবকিছুই চলে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে। অনেক প্যাথলজি সেন্টার থেকে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া অনেক ক্লিনিক ও প্যাথলজি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক। নেই ডিপ্লোমা নার্স এবং তিন বছরের ডিপ্লোমা পাশ টেকনিশিয়ান। অনভিজ্ঞদের দিয়েই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা সদর হাসপাতাল কমপ্লেক্সের অধিকাংশ চিকিৎসা তাদের দায়িত্ব ফেলে এসব ক্লিনিকে সময় দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরফলে ভোগান্তির শিকার হয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা।

সচেতন মহল এসব ক্লিনিক ও প্যাথলজির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্যা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে চিকিৎসা সেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অবাধে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে প্রাশসনের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে অনেকে জানিয়েছেন।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *