গলাচিপায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্যের কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ

ফলো আপ

৭১বিডি২৪ডটকম | সাইমুন রহমান এলিট:


গলাচিপায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা


গলাচিপা (পটুয়াখালী): গলাচিপায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য এখন পর্যন্ত কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাতের যে কোন সময় বাবা দেলোয়া হোসেন মোল্লা (৬৫), মা পারভীন বেগম (৫৫) এবং মেয়ে কাজলী আক্তার (১৫)কে খুন করে হত্যা করা হয়। এ খুনের ঘটনায় নিহত দেলোয়ার হোসেন মোল্লার বড় ভাই ইদ্রিস মোল্লা (৭০) বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় বৃহস্পতিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় কোন আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে গতকাল বুধবার রাতে এডিশনাল এসপি মো. মাহফুজুর রহমান, এএসপি সার্কেল, মো. জহিরুল ইসলাম, গলাচিপা থানার ওসি মো. জাহিদ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। তারা সুরাতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশগুলো রাতেই ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করেন। এ খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইডি মো. আকরাম হোসেন, এডিশনাল এসপি মো. মাহফুজুর রহমানসহ পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।

এব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব সব কথা বলা যাবে না। তবে খুনের রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক সূত্র জানাগেছে, এ ট্রিপল মার্ডারের আগেও একই বাড়িতে অপর আরেকটি খুনের ঘটনা ঘটে। খুনের শিকার দেলোয়ার হোসেন মোল্লার বড় ভাই ইদ্রিস মোল্লার বাড়িতে একই বংশের মাইনুদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে গত ১০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এসময় ইদ্রিস মোল্লার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. সফি মোল্লা সন্ত্রাসীদের হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়। এর কয়েকদিন পর ঢাকার একটি হাসপাতালে আঘাতজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার (সফি) মৃত্যু হয়। ইদ্রিস মোল্লার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি তার মেয়ে মোসা. মাহিনুর বেগম বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সফি মারা যাওয়ার পর ওই মামলার সঙ্গে হত্যা মামলা ৩০২ ধারা সংযুক্ত করে পুলিশ। এ মামলাটি বর্তমানে পটুয়াখালী সিআইডিতে তদন্তধীন রয়েছে।

এ ঘটনার পর সফি হত্যা মামলার স্বাক্ষী পিয়ারা বেগমের বসত ঘরে ২৫ মার্চ সফি হত্যা মামলার আসামী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে গলাচিপা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এর কয়েকদিন পর আবারও সফি হত্যা মামলার অপর স্বাক্ষী মোসা. পারভীন বেগমকে ৩০ মার্চ আসামীরা নানা রকম দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় তাকে মারধর করা পর নানা রকম হুমকি দিয়ে চলে যায়। এঘটনায়ও মোসা. পারভীন বেগম বাদী হয়ে গলাচিপা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন যার নম্বর (এমপি-১৫৮/১৭)।

সরেজমিনে এলাকায় গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোপনে এলাকাবাসী জানায়, চাঞ্চল্যকর এ ট্রিপল মার্ডারের সাথে সফি খুনের ঘটনা সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করেন।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *