গলাচিপায় অবৈধ বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গনের কবলে ঘর-বাড়ি


গলাচিপায় অবৈধ বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গনের কবলে ঘর-বাড়ি


পটুয়াখালীর গলাচিপায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ‘জয়বাংলা’ চর নামে খ্যাত ভাসমান চরের অবৈধ ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলন করায় দুই পাড়ের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও ঘর বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে বেঁড়ী বাঁধ।

গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ইং তারিখে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান মহন মিয়া উপস্থিত থেকে উক্ত চরের নামকরণ করেন “জয় বাংলার মুক্তিযোদ্ধ চর”। যা গলাচিপা মৌজার নলুয়াবাগী ও পক্ষিয়ার মাঝে রামনাবাদ নদীতে অবস্থিত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১৫ টি ড্রেজার ২৪ ঘন্টা উক্ত চরে বালু উত্তোলন করছেন কিছু কুচক্রীমহলের ড্রেজার মালিকরা। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের ইজারা ও অনুমতি সাপেক্ষে ডুবোচরে বালু উত্তোলন করছি। তাদের কাছে কাগজ পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তারা গত ১৫/৪/২০১৮ ইং তারিখের জেলা প্রশাসক প্রদত্ত ইজারার কাগজ তুলে ধরেন।

তাতে দেখা যায়, অনুমতি দেয়া হয় গোলখালী নদীর ডুবোচরের সাধারণ বালু মহল নামে একটি ইজারা পত্র । যার রশিদ নম্বর হল- ২৩৪৪২ ও রেজিঃ নম্বর -১২৮। ইজারার টাকার পরিমাণ হল- ভ্যাটসহ ২৬৪২৬৬৪ (ছাব্বিশ লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার ছয়শত চৌষট্টি) টাকা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টাম্পে চুক্তিপত্র শর্তসাপেক্ষে সই হয়েছে। যাতে প্রথম পক্ষ হিসেবে উল্লেখ আছে, মোসা. তানিয়া ফেরদৌস, স্বাক্ষরিত, রেভিনিও ডেপুটি কালেক্টর, পটুয়াখালী। আর দ্বিতীয় পক্ষ হছেন, মনিরুজ্জামান লিটু স্বাক্ষরিত, মেসার্স বুশরা বিল্ডার্স, শেরেবাংলা সড়ক, পটুয়াখালী। সেখানে আসমত হোসেন (১৮২১১) স্বাক্ষরিত, সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পটুয়াখালী।

এর সাথে বালুমহলের একটি ম্যাপ যুক্ত ছিল। সেখানে যেসব শর্ত ছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু শর্ত হল, চুক্তিপত্রে নির্ধারিত স্থানের ম্যাপের বাহিরে কোন প্রকার বালু উত্তোলন করা যাবে না। বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ভাঙ্গন ও ফসলী জমি ক্ষতি হয় এ রকম স্থানে বালু উত্তোলন করা যাবে না। অস্বাভাবিক গভীরতা মানে পানি স্তর থেকে ১২ ফুটের বেশী গভীর করা যাবে না। ১৩ ফুট ঢাল সংরক্ষন করতে হবে। কোন নোঙ্গর নিষিদ্ধ সাইনবোর্ড থাকলে সেখানে বালু উত্তোলন করা যাবে না। বাস্তবে চুক্তিতে আছে গোলখালী নদীতে সাধারণ ডুবোচর অথচ বালু কাটছে রামনাবাদ নদীর নলুয়াবাগী ও পক্ষিয়ার মাঝামাঝি চরে। এটা চুক্তির সম্পূর্ন লঙ্গন।

এ ছাড়া চুক্তিতে আছে সাধারণ ডুবোচর অথচ বালু কাটছে ভাসমান ৫ শত একর এলাকা জুড়ে গড়ে উঠা জয়বাংলার মুক্তিযোদ্ধা চরে। অথচ ভূমি দূস্যরা সরকারী সব শর্ত ভংঙ্গ করে জেগে উঠা “জয়বাংলা চর” প্রতিদিন ৯ (নয়) শত থেকে ১২ ( বারো) শত ফুট গভির করে বালু উত্তোলন করে রাতারাতি ধনকুপের মালিক হচ্ছে অসাধুপায়ী ড্রেজার মাকিক পক্ষ।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযেদ্ধা মো. নিজাম উদ্দিন তালুকদার, জয় বাংলা মুকিযোদ্ধা পরিষদের প্যাডে, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সদস্য পটুয়াখালী-৩ আসনের এস এম শাহজাদা বরাবরে লিখিত আবেদন পত্রটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রেরণ করেন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরবরে উক্ত চরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

এ ব্যাপারে নিজাম উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আবেদন করেছি। তা ছাড়া আমি নিজে গিয়ে ওই স্থানে থেকে ড্রেজার তাড়িয়ে দিয়েছি। এরপরে আমি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করায় এই সুযোগে, আমি জেনেছি ড্রেজারগুলো পুনরায় বালি উত্তোলন করছে। আমি জেলা প্রশাসককে এখনই বিষয়টি পূর্বেও লিখিতভাবে অভিযোগ আকারে জানিয়েছিলাম, প্রয়োজনে আবারো জানাবো ।

স্থানীয় কৃষক মোঃ হানিফ হাওলাদার, আনোয়ার হোসেন, মোঃ তালেব, সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ কালু হাওলাদার জানান, প্রতিনিয়ত এভাবে জয়বাংলার চরে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আমাদের দুই পাড়ের ফসলি জমি যেভাবে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে তাতে আমাদের পথে নামা ছাড়া উপায় থাকবেনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সুরিদ সালেহীন বলেন, আমি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।


৭১বিডি২৪ডটকম/স্টাফ রিপোর্টার/গলাচিপা (পটুয়াখালী)

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *