গলাচিপায় অবঃ শিক্ষক কর্তৃক ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষন পিতা মাতা লাঞ্চিত ॥ থানায় মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের মুদিরহাটে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার কালাই কিশোর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঐ স্কুল ছাত্রীর মা, বাবাকে লাঞ্চিত করে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। পরে ধর্ষিতার পিতা থানায় উপস্থিত হয়ে আলী হোসেন সহ ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিভিনś সুত্রমতে জানাগেছে, ধর্ষিতা উত্তর বাদুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী, এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি আলী হোসেনের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত সে। কাজের জন্য প্রতিদিন ঐ বাড়িতে আসাযাওয়া করার এক সময় আলী হোসেনের কু-নজরে পড়ে। এরপর থেকে বিভিনś সময়ে প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার শারীরিক মেলামেশায় তাকে বাধ্যকরে আলী হোসেন। একপর্যায়ে কিশোরীর শরীরে অন্তঃসত্ত্বার লক্ষন দেখা দিলে চতুর আলী হোসেন কিশোরিকে ভয় দেখিয়ে আমতলী নিয়ে গিয়ে এক নার্স কতৃক তার গর্ভপাত ঘটান। এতে কিশোরিটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বিষয়টি তার মায়ের কাছে প্রকাশ পায়। এরপর তাকে নিয়ে তার বাবা, মা আলী হোসেনের বাড়িতে গেলে তিনি কৌশলে ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রাশিদা বেগমকে খবর দেন। রাশিদা বেগম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্ষিতার বাবা, মাকে এ নিয়ে বারাবারি না করার জন্য হুমকী দেন। এ সময় ইউপি সদস্য রাশিদা বেগমের সাথে কথাকাটাকাটি হয় ধর্ষিতার বাবার সাথে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মহিলা ইউপি সদস্য রাশিদা বেগম ধর্ষিতার বাবাকে মারধর শুরু করে। এসময় স্বামীকে বাঁচাতে আসলে ঐ কিশোরির মা কেও মারধর করা হয়, ঘটনার আকস্মিকতায় ধর্ষিতার আর্তচিৎকারে পার্শবর্তী লোকজন ছুলে আসলে ইউপি সদস্য ধর্ষিতার পরিবারকে এ নিয়ে বারাবারি করলে দেখে নেয়ার হুমকী দেয়। পরের দিন ধর্ষিতার পিতা গলাচিপা থানায় উপস্থিত হয়ে আলী হোসেন সহ ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রাশিদা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ধর্ষিতার পিতা মাতাকে মারধর করার কথা নিজ মুখে স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, মামলার বাদী তাদের নিকট আতĄীয়, ঘটনার শুরুতে তার কাছে না বলার কারনে তিনি মারধর করেছেন। এ ব্যাপারে আলী হোসেনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, তবে তার ছেলে ফারুক বলেন যদি এ ঘটনার সাথে তার বাবা জড়িত থাকে তাহলে তিনিও বাদী পক্ষে এক সারিতে দাড়িয়ে তার বাবার শাস্তি দাবি করবেন। এদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ক্ষোভে নড়েচড়ে বসেন এলাকার সাধারন মানুষ। অভিযুক্ত আলী হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করে বিগত দিনে এ ধরনের কোন ঘটনা আরো ঘটিয়েছেন কিনা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন তারা। এদিকে কত্যর্বরত নার্স ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে তার কছে আশ্রয় চেয়ে অনেক অনুরোধ করেন পরে মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি গর্ভপাত ঘটান। এদিকে ঘটনার পরপরেই মামলার চার আসামী পলাতক থাকলেও বেশ দাপটের সাথে মামলা ৪নং আসামী ইউপি সদস্য রাশিদা বেগম মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীকে হুমকী ধামকী দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিতার পরিবার সুত্রে অভিযোগ পাওয়াগেছে, নাড়ী ইউপি সদস্য অভিযুক্ত আলী হোসেন পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকী ধামকী প্রদান করে আসছেন। বর্তমানে তাদের ভয়ে মামলার বাদী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলোচিত এই ঘটনায় কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *