গলাচিপার ব্যবসায়ীদের স্বআরোপিত নিয়ম ৪৮কেজিতে মণ। প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকেরা

৭১বিডি২৪.কম | সোহাগ রহমান,


গলাচিপা


গলাচিপা(পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা কৃষকরা চলতি আমন মৌসুমে ধান বিক্রি করতে এসে আড়ৎদার ও ফরিয়াচক্রের প্রতারনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, নীয়ম-নীতি লংঘন করে স্থানীয় ধান বাজারে আড়ৎদার ও ফরিয়া চক্রটি সংঘবদ্ধ হয়ে ৪০ কেজিতে এক মনের পরিবর্তে ১০০ টাকা করে ঠকছেন দরিদ্র কৃষকেরা। দীর্ঘতিন ধরে ওজনে এমন কারচুপি চললেও উপজেলার প্রায় ১ লাখ কৃষক এই চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে তা নীরবে মেনে নিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ধান ক্রয়ের ৮০-৯০ জন আড়ৎদার এবং কয়েকশ ফরিয়া রয়েছে। এরা মৌসুম ভিক্তিক ধান, ডাল, বাদাম, মরিচ সহ অন্যান্য ভূষামাল কেনেন। আড়ৎদার মালিক সমিতির অধীনে এদের রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র। বিভিন্ন ফসল মৌসুমে এই চক্র নিজেদের ইচ্চামতো উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মূল্য ও পরিমান নির্ধারন করে কৃষকদের উৎপাদিত পন্য কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করছেন।

ভূক্তভোগী কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, চলতি আমন মৌসুমে বাজারে প্রতিমন (৪০ কেজি) ধান ৭০০ টাকা থাকলেও গলাচপা ধানের বাজারের আড়ৎদারের তারা ৪৮ কেজিতে এক মন নির্ধারন করে তা ৭০০ টাকায় কিনছেন। এতে কৃষকরা মনপ্রতি ধানে ১০০ টাকা কওে ঠকছেন। এতে আপত্তি জানালে ফড়িয়া এবং আড়ৎদারেরা কৃষকদেও কাছ থেকে কেউ ধান কিচনেছন না।

চালিতাবুনিয়ার গ্রামের কৃষক মোঃ নাসির হাওলদার শনিবার জানান, গলাচিপা বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে দেখেন ৪০ কেজির স্থালে ৪৮ কেজিতে মন হিসাবে করা হচ্ছে। এসময় তিনি এর প্রতিবাদ জানালে আড়ৎদার তাঁর ধান কিনতে অস্বীকৃতি জানান, পরে অন্য আড়তে গিয়েও একই নিয়মের কথা জানতে পারেন। পরে ধান ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবন খরচের কথা চিন্তা করে তিনি ওই নিয়মেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

গোলখালী গ্রামের দরিদ্র কৃষক হাসান জানান, ৪০ কেজির এক মন ধান ৭০০ টাকায় বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ওঠে না। কিন্তু আড়ৎদার ফড়িয়ারা একজোট হয়ে এই অনিয়ম করায় তারাঁ বাধ্য হয়ে এটা মেনে নিচ্ছেন।

গলাচিপা আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মোঃ কালাম ইসা জানান ৪৮ কেজিতে মন হিসাব করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ঠিকই ৪৮ কেজিতে মন হিসাব করি। এজন্য অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে ধানের মূল্যও বেশী। এতে কৃষকদের সমস্যা হওয়ার করা নয়।
শনিবার সকালে গলাচিপা ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, অনিক কৃষখ এই পরিমাপের কথা জেনে বিক্রি করতে আনা ধান বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যা্েচ্ছন। আবার অনেকে আড়ৎদার ও ফড়িয়াদের সঙ্গে দরকষাকষি করছেন।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, ৪০ কেজির পরিবর্তে কেউ যদি কৃষকদেও কাছ থেকে ওজনে ৪৮ কেজি নেয় সেটা অন্যায় । বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *