কুয়াকাটা ও মহিপুরের আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত

৭১বিডি২৪ডটকম ॥ করেসপন্ডেন্ট;


কুয়াকাটা ও মহিপুরের আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত


কুয়াকাটা(পটুয়াখালী): তিন দিনের টানা বৃষ্টিপাত, নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে সম্পুর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে আরও চার কিলোমিটার। কুড়িটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের আমন ফসলের ক্ষেত এখন পানির নিচে। পুকুর ও মাছের ঘের তালিয়ে থাকায় দুই কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। অন্তত অর্ধশত পরিবারের ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শত শত পরিবারে রান্না পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এসব মানুষের অবর্ননীয় দুর্ভোগ এখন চরম দূর্যোগে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন লালুয়ার চারিপাড়া, মুন্সিপাড়া, নাওয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, বানাতিপাড়া, ১১ নং হাওলা, থঞ্জুপাড়া, পশুরবুনিয়া, বড় পাচনংসহ ১৫ টি গ্রাম এবং মহিপুরের নিজামপুর, সুধিরপুর, কমরপুর, পুরান মহিপুর, ইউছুপপুর গ্রামের মানুষ।

এই দু’টি ইউনিয়নের রামনাবাদ পাড়ের লালুয়ার প্রায় চার কিলোমিটার এবং মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুরের আন্ধারমানিক নদীতে প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পুর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে এখন ভাসছে। ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রমজানপুর বেরীবাধ হুমকির মুখে। বালীয়াতলী ইউনিয়নের বাবলাতলা বাজারের বড় জামে মসজিদের টিনের ছাউনি উরিয়ে নিয়ে যায়। একই ইউনিয়নের সোনাপাড়া গ্রামে মোতাহার তালুকদারের ঘর চাপা পড়ে একটি গরু মারা যায়। এলাকার স্লুইজ গুলোতে কড়া নির্দেশনা দেয়া রয়েছে পানি ঠিকমত নামাতে হবে।

বাবলাতলা বাজারের জামে মসজিদ তাৎক্ষনিক সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবীর নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন। জনপদ বাড়িঘর থেকে ফসলী জমি পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। নিজামপুর গ্রামের সিদ্দিক মুন্সী জানান, তাদের ঘরবাড়ি জোয়ারের ¯্রােতে ভেসে গেছে। প্রায় অর্ধশত পরিবারের ঘরবাড়ি কমবেশি বিধ্বস্ত হয়েছে। নিজেরা বসবাসসহ গবাদিপশু হাসমুরগি নিয়ে এসব মানুষ চরম বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছেন। সুধিরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, স্থানীয় এমপি মাহবুবুর রহমানের বানিজ্যিক প্রতিষ্টান গঙ্গামতি এন্টারপ্রাইজ পাউবোর নিজামপুর বেরীবাধ নির্মানে পুকুর চুরি করেছে, তার খেসারত দিচ্ছে এলাকাবাসী। কুয়াকাটায় অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে সৈকতের গাছপালা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ভেসে গেছে শতদোকান এবং ভেঙ্গে গেছে পুরাতন সেই ফরেইজ মিয়ার ঘর। মিরাবাড়ি ও খাজুরায় বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রিভার সাইটের স্লোপসহ মূলবাঁধের অর্ধেকটা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। কুয়াকাটা পৌরএলাকার মানুষ রয়েছেন জলোচ্ছ্বাস আতঙ্কে। একদিকে বিরামহীন বৃষ্টিপাত, সঙ্গে পুবের দমকা ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি নিত্যকার দুই দফা অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে কলাপাড়ার দুই লক্ষাধিক মানুষ এখন শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামান তারা জানান, দুই মাসের মাথায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাউবোর নির্মানাধিন বাধটি ভেঙ্গে গিয়ে এই পরিনতি করেছে। বেড়িবাধঁ ভেঙ্গে ১৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

মহিপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক আকন জানান, নিজামপুর ও কমোরপুর বেড়িবাধ ভেঙ্গে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৬ হাজার মানুষ। বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে ৫৭টি। কলাপাড়া কৃষি কর্মকর্তা জানান, জোয়ারের পানিতে বেড়িবাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল তলিয়ে রয়েছে। পানি না নামলে আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে আন্তত দুই কোটি টাকার পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। মাছ ভেসে গেছে।

কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর রহমান, কলাপাড়া থানার ওসি মোঃ আলাউদ্দিন শনিবার দুপুর থেকে পানিবন্দীদশা মানুষের দুরবস্থা স্বচক্ষে পরিদর্শন করছেন। সেইসঙ্গে শুকনো খাবার বিতরন করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, বেড়িবাঁধ বিধ্বস্তের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান লালুয়া ও মহিপুরে প্রায় চার কিমি বেড়িবাঁধ সম্পুর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া চর ধুলাসারে, রমজানপুরে বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *