কাঁদলেন জেমস !

53

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক  ::


কাঁদলেন জেমস !


বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে আইয়ুব বাচ্চু আর জেমস দুই নক্ষত্রের নাম যাঁরা এই ছোটদেশের অনেক বড় মাপের শিল্পী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলেছেন বছরের বছর ধরে। দশকের পর দশক তারা ধরে গণ মানুষের শিল্পী হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছেন। তারা যখন একসঙ্গে সঙ্গীত জগতে কাজ করতেন তখন সেটা ছিলো বাংলাদেশের সঙ্গীত ইতিহাসের স্বর্ণযুগ।

আইয়ুব বাচ্চু চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হসপিটালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হসপিটালে সবাই জেমসের উপস্থিতি চাইছিলেন। কিন্তু একটা সময় জানা গেল জেমস আসবেন না। ততক্ষণে বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত একটি কনসার্টে বরগুনার পথে রওনা হয়েছেন তিনি।

এই কনসার্টে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের আরেক গুরু জেমস কাঁদলেন ও কাঁদালেন সারাদেশকে। উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্টকে শ্রদ্ধা জানালেন গিটার বাজিয়েই। বরগুনার কনসার্ট শুধু আর বরগুনায় রইলো না। জেমস কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণা করলেন একসময়ের সহচর দীর্ঘদিনের বন্ধু আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে। কথা বলতে গিয়ে বারবার ধরে আসছিল এই শিল্পীর গলা। একটি কনসার্টের স্মৃতিচারণা করে তিনি বললেন-

‘কিংবদন্তি গায়ক আইয়ুব বাচ্চু আর নেই। আজকের অনুষ্ঠানটি করার একদম ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু ১৫ বছর আগের একটা গল্প বলি। আমি আর বাচ্চু ভাই আড্ডা মারি; একদিন আসতে আসতে বাচ্চু ভাইকে বললাম, আমাদের শিল্পীদের জন্য ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, দ্যা শো মাস্ট গো অন (The Show Must Go On)। তাই চেষ্টা করব…’। এ কথাগুলো যখন বলছিলেন গলা ধরে আসছিল জেমসের।

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে জেমসের পরিচয় ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক। কনসার্টে যোগ দেওয়ার আগে বিকেলে জেমস মোবাইলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময় আমরা একে অপরের সুখে-দুঃখে, মানে-অভিমানে কাটিয়েছি। একসঙ্গে প্রচুর শো করেছি, গান করেছি, দেশ-বিদেশে ঘুরেছি। তিনি অকস্মাৎ এভাবে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন, খবরটা মানতে পারছি না। রকসংগীতে তাঁর যে অবদান, সেটা এই জাতি চিরদিন মনে রাখবে বলেই বিশ্বাস করি।’

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

শিরোনাম