কলাপাড়ায় বিদ্যুতের তার ও খূঁটি বসানোর নামে কোটি টাকার বানিজ্য!

৭১বিডি২৪ডটকম ॥ মো. ফরিদ উদ্দিন বিপু;


কলাপাড়া


কলাপাড়া(পটুয়াখালী): কলাপাড়ার গ্রামীন এলাকায় বিদ্যুতের তার ও খূঁটি বসানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘর প্রতি ৭শ’ থেকে এক হাজার এবং ক্ষেত্র বিশেষে ৩/৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিচালকের যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার ধূলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া (থৌপাড়া ও বারোঘর), চরগঙ্গামতি, অনন্তপাড়া, পশ্চিম চাপলী, দক্ষিন চাপলী ও তারিকাটা গ্রামে কেবল বিদ্যুতের তার ও খূঁটি বাসানোর আশ্বাসেই ঘরপ্রতি ৭ শ’ থেকে এক হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। কেবলমাত্র চরগঙ্গামতি গ্রামে ঘর প্রতি ৭শ’ টাকা আদায় করা হলেও অপর গ্রামগুলোতে এক হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। কোন প্রকার গোপনীয়তা না রেখেই গ্রামগুলোর প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়েই টাকা আদায় করা হয়। ধূলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল আকন ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিচালক ইউসুফ আলীর যোগসাজশে বিভিন্ন গ্রামে পৃথক পৃথক আদায়কারীর মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।

চরগঙ্গামতি গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ রাজ্জাক সিকদার জানান, ‘টাকা না দিলে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না, তাই চেয়ারম্যানের লোক আফজালের কাছে আমরা ঘরপ্রতি ৭শ’ টাকা করে দিছি। আমার দুই ঘর বাবদ ১৪শ’ টাকা দিছি। একই গ্রামের ইব্রাহীম জানালেন, তাদের গ্রামে ৭শ’ ৩০টি পরিবার রয়েছে।

পশ্চিম চাপলী গ্রামের ইয়াছিন ওরফে পচা মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৪৫) জানান, ‘কারেন্টের লাইনের জন্য ১০ দিন আগে আব্দুর রহিম ১ হাজার টাকা নেছে। চেয়ারম্যান তারে ঘরে ঘরে পাঠাইছে।’ একই অভিযোগ ধুলাসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পশ্চিম চাপলী গ্রামের প্রবীন আজাহার খলিফার। তিনি জানান, ‘চেয়ারম্যান আমাদের খানা প্রতি (ঘরপ্রতি) ১ হাজার টাকা করে দিতে বলছে। এরপর চেয়ারম্যান লোক পাঠাইয়া ১ হাজার টাকা করে গ্রাম থেকে উত্তোলন করেছে। আমার ঘর থেকে বিদ্যুতের খূঁিট একটু দূরে পড়বে এজন্য আমার সাড়ে তিন হাজার টাকা দেওয়া লাগছে। আমার মতো আরও যাদের ঘর খূঁিট থেকে দূরে পড়ছে তাদের প্রত্যেকের ৪-৫ হাজার টাকা করে দেওয়া লাগছে।’ নতুনপাড়া গ্রামের চানমিয়া সরদারের ছেলে জলিল সরদার (৫২) বলেন, কারেন্টের জন্য ১ হাজার টাকা দিছি। আমাদের ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি কালাম চেয়ারম্যান এর কথা বলে প্রত্যেক ঘর থেকে ১ হাজার টাকা করে উঠাইছে।’

এদিকে ধুলাসার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল আকনের তত্ত্বাবধানে টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে। তারা প্রত্যেকে ঘর প্রতি ১ হাজার টাকা করে চেয়ারম্যানের লোকের কাছে দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।

টাকা আদায়কারীদের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যুতায়নের জন্য এলাকায় ইঞ্জিনিয়ার সহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক এসে পরিমাপ করে গেছেন। টাকা আদায়ের সাথে জড়িত চরগঙ্গামতি গ্রামের আফজাল হোসেন, হেলাল শরীফ, পশ্চিম চাপলীর সুমন বেপারী ও অনন্তপাড়া গ্রামের আবদুর রহিম সহ অন্যান্যরা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সব ইউনিয়ন বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনার কাজ চলছে। আরইবির খরচে এসব এলাকায় লাইন জরিপ, বৈদ্যুতিক লাইনের খূঁটি ও সংযোগ স্থাপনের কাজ করবে। আরইবির নীতিমালা অনুযায়ী এজন্য প্রত্যেক সংযোগ বা মিটার প্রত্যাশীকে ১০০ টাকা ফি প্রদানের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। জিডি বাবদ ৬০০ এবং সদস্য ফি বাবদ ৫০টাকা জমা দিতে হয়। খাস জমির ডিসিআর প্রাপ্ত জমির মিটার প্রত্যাশীকে দিতে হবে জিডি বাবদ ১৬০০ এবং সদস্য ফি বাবদ ৫০টাকা। আর এসব কাজ করছে আরইবি নিজের উদ্যোগে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *