কলাপাড়ায় পুনঃজমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে ৬ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ কৃষকদের সাংবাদিক সম্মেলন

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: মো. ছগির হোসেন ::


কলাপাড়ায় পুনঃজমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে ৬ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ কৃষকদের সাংবাদিক সম্মেলন


:: কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী ইউনিয়নে দু‘টি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান কাজ চলছে। এরপরেও ওই ইউনিয়নের অবশিষ্ট বসত বাড়ি-ঘর এর ২০০ একর জমি থেকে পুনঃরায় আরো ১৫০ একর জমি অধিগ্রহনের প্রস্তুতি চলছে। জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে ওই এলাকার চার মুক্তিযোদ্ধা ও প্রায়ত দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং কৃষকরা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। রবিবার বেলা ১১ টায় কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন মাননুর সভাপতিত্বের ধানখালী ইউনিয়নের মধুপাড়া, চর নিশানবাড়িয়া, গড়াৎখা এবং মাছুয়াখালী গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক এ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। কৃষকদের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাসেম।

লিখিত বক্তব্যে জানান, ধানখালী ইউনিয়নে ১৩২০ এবং ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান কাজ চলছে। তারপরও একই ইউনিয়নের অবশিষ্ট প্রায় ২০০ একর জমিতে কৃষকদের বসত বাড়ি-ঘর থাকলেও সেখান থেকে পুনরায় ১৫০ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য গত ৯ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সার্ভেয়ার ধানখালীর মধুপাড়া মৌজা থেকে ১৫০ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য পরিদর্শণ করেন। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’ মধুপাড়া, চর নিশানবাড়িয়া, গড়াৎখা এবং মাছুয়াখালী গ্রামের অবশিষ্ট জমিতে ৩০০ কৃষক পরিবারের মধ্যে ছয় জন মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি-ঘর রয়েছে। তার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহালম হুদা তালুকদার এবং মো. সুলতান আহম্মেদ মৃত্যুবরন করায় তাদের স্বজনরা অভিভাবকহীন অবস্থায় বসবাস করছেন। অপর চার মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হোসেন, মো. সালাহ উদ্দিন, মো. জালাল তালুকদার, মো. নাজমুল হুদা সালেহ এর বসতবাড়ি রয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহন করা হলে দুই মক্তিযোদ্ধার কবরস্থান, তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয়টি মসজিদসহ অনেক স্থাপনা নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, নির্মানাধীন দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য ধানখালী ইউনিয়ন থেকে ১২০০ একর এবং ১০০২ একর জমি অধিগ্রহন করেছে। তখন কৃষকের জমির রোপা ধানের বীজ তুলে ফেলা হয়েছে। উন্নয়নের স্বার্থে আমরা মেনে নিয়েছি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মানে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি পরিবারের মাঝে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ আবাসনের ঘর হস্তান্তর কালে বলেছিলেন ‘এই এলাকায় (ধানখালী) আর কোন জমি বা ভ‚মি অধিগ্রহন করা হবে না। তখন আমার স্বস্তির নিস্বাস ফেলেছিলাম। কিন্তু শিল্প মন্ত্রনালয়ের এক সচিব আবারও মধুপাড়া মৌজা থেকে ১৫০ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষনা দেওয়ায় আমরা সকল পেশার মানুষ এবং কৃষকরা উৎকন্ঠিত হয়ে আছি। আমরা আর কোন জমি দিবো না, জীবন দিবো জমি দিবোনা। বসতবাড়ি, মুক্তিযোদ্ধার কবর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ থাকা এসকল জমি অধিগ্রহন হতে দিবোনা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজমুল হুদা সালেহ, স্থানীয় মেম্বর মো. ফিরোজ তালুকদার, খালেক চৌকিদার, আ. মন্নান পাহলয়ানসহ অর্ধশত কৃষক।

এব্যাপারে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রসাসক (রাজস্ব) মো. মামুনুর রশিদ জানায়, ওই এলাকায় শিল্প মন্ত্রনালয়ের একজন সচিব পরিদর্শণ করেছেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহনের কোন চুড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহন হয়নি।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *