কলাপাড়ায় চরম অনিয়মের মধ্যে বই বিতরণ, টাকা আদায়ের অভিযোগ,অভিভাবকরা জিম্মি !

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: মো. ছগির হোসেন ::


অভিযোগ


:: কলাপাড়া(পটুয়াখালী) :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধ্যমিক পর্যায় সরকারের বিনা মূলে বিতরণের বই উৎসব ভেস্তে গেছে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই বিতরণ এখন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তিফিসহ বিভিন্ন ধরনের ফি আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষায় সাধারণ মানুষের উৎসাহ যোগানের সরকারের মহতি উদ্যোগ। উপজেলার ২৭টি মাদ্রাসা এবং ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব ক’টিতে একই চিত্র বিদ্যমান। সাধারণ অভিভাবকরা এ চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে প্রকাশ্যে এসব চালাচ্ছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে সরকারি দলের একশ্রেণির নেতাকর্মীরা সভাপতি ও সদস্য হিসাবে নিয়োজিত রয়েছেন। অথচ সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় কমিটির সদস্যদের কোন ভূমিকা নেই। আর এসব কারণে অন্তত এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত বই পায়নি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এসব অনিয়ম আর দুর্নীতির নানা তথ্য জানা গেছে। একেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেক ধরনের সেশন ফি আদায় করা হচ্ছে। ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত সেশন ফিসহ ভর্তি বাবদ নেয়া হচ্ছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টক দেখলেই বোঝা যায় কেন এখনও এক তৃতীয়াংশ বই বিতরণ করা হয়নি। খেপুপাড়ার মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেপুপাড়া নেছার উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসাসহ অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খবর নিয়ে শিক্ষার্থীর এমনসব দুরাবস্থা পাওয়া গেছে। মানুষ ধার-দেনা-কর্জ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবি করা অর্থ দিয়ে বই নিতে বাধ্য হচ্ছে।

মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস ছালাম জানান, তিনি নতুন ভর্তিসহ সেশনফি বাবদ ৫০০ টাকা নেন। তবে টাকার জন্য কোন শিক্ষার্থীর বই বিতরণ বন্ধ রাখা হয়নি। তিনি ১১৬০ সেট বই পেয়েছেন কিন্তু এখনও অন্তত ৩৫০ সেট বই বিতরণ বাকি রয়েছে।

খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম জানান, টাকার জন্য কারও বই আটকানো হয়না। সেশন ফি ৭০০ টাকা সঙ্গে অন্যচার্জ রয়েছে। তার এখনও এক তৃতীয়াংশের বেশি (প্রায় পাঁচ শ’ সেট) বই বিতরণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। এমনদৃশ্য অধিকাংশ স্কুল মাদ্রাসার। তবে রোষানলের ভয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। আর বই বিতরনে এমনসব অনিয়মের কারনে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

প্রায় টানা ২০ বছর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে চাকরিরত অফিস সহকারী নেছারুদ্দিন জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৮ হাজার ২১০ সেট। মাদ্রাসায় ৯৪২০ সেট এবং এবতেদায়ী শাখায় ১১৩৭০ সেট বই প্রদান করা হয়েছে।

কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভীর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অনিয়ম করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *