এবার নেপালের আকাশে একঘণ্টা অপেক্ষায় বিমানের ফ্লাইট

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: অনলাইন ডেস্ক ::


এবার নেপালের আকাশে একঘণ্টা অপেক্ষায় বিমানের ফ্লাইট


এবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটকে অবতরণের অনুমতি না দিয়ে আকাশে দাঁড় করিয়ে রাখলো কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট। এই সময় বিমানের সিটের সামনের মনিটরে জিপিএস রুটম্যাপে বারবার তাকাচ্ছেন যাত্রীরা। ম্যাপে দেখাচ্ছিল ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের আশপাশেই। অপেক্ষার প্রহর যেন আর শেষ হয় না। ম্যাপে এক ঘণ্টা ধরে একই স্থানে ঘুরছে বিমান।

ঘটনাটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাঠমান্ডুগামী ফ্লাইট বিজি-০০৭১ এর। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার (১৩ মার্চ)  সকাল সাড়ে ১১টায় ছাড়ে ময়ূরপঙ্কী বিমানটি। কথা ছিল নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।ইউএস বাংলা’র ফ্লাইটের প্রাণঘাতি দুর্ঘটনার পর এটাই ছিল বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রথম ফ্লাইট।

ফ্লাইটটির বিজনেস ক্লাসে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালসহ সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি সাংবাদিকসহ শতাধিক যাত্রী।

অন বোর্ড ইনফরমেশন অনুসারে, মন্ত্রীসহ বিমানের বিজি ০০৭১ ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে অবতরনের জন্য ত্রিভুবন বিমানবন্দরের আকাশে পৌঁছায়।

গন্তব্যস্থল থেকে মাত্র ৪৯ মাইল দুরত্বে থাকাকালীন ফ্লাইট এট্যান্ডেন্ট নুসরাত জানান,  কাঠমান্ডুরর আকাশে ঝলমলে রোদ। কিন্তু ট্রাফিক কিউ থাকায় আমাদের ৩০ মিনিট পর বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে আবার কন্ট্রোল টাওয়ারের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো ৩০ মিনিট অর্থাৎ এক ঘন্টা পর অবতরণের কথা জানান ফ্লাইটের কো-পাইলট। এরপর হিমালয় পাদদেশের আকাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে বিমান। মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে থাকার পর আকাশে ঘুরতে  থাকেন পাইলট। উঠে যান ২৫ হাজার ফুট উপরে। ঘুরতে থাকেন ৫ হাজার, ১২ হাজার ১৮ হাজার ফুটচ্চতায়। আধা ঘন্টা পর তিন দফায় ঝাকুনি খায় বিমান। ফ্লাইট এটেন্ডের মাথায় এসে পড়ে আরেক যাত্রীর পানির বোতল।

বিমানের ফ্লাইটটিতে কাঠমান্ডু ফিরতে থাকা নেপালের নাগরিক সুমিত বললেন, কালকের ঘটনার পর আজকের এই  পরিস্থিতিতে আমি সত্যি ভীত। মনে মনে দোয়া করছি যেন ভালোভাবে পৌঁছাতে পারি।

পরে বাংলাদেশ সময় ২টা ৩ মিনিটে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে রানওয়ে স্পর্শ করে ফ্লাইট। ককপিট থেকে নেমে এসে যাত্রীদের ধন্যবাদ দেন পাইলট।

আগের দিন সোমবার ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু গিয়ে সেখানকার আকাশে প্রায় আধাঘন্টা অপেক্ষা করেও অবতরণের অনুমতি না পেয়ে ঘুরতে থাকা ইউএস-বাংলার ফ্লাইটের দুই ইঞ্জিনের এক্টিতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখতে  পান পাইলট। পরে তাকে নামার অনুমতি দিলেও ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে দেয়া হয় ভুল তথ্য। ফলশ্রুতিতে প্রান হারান অর্ধশতাধিক যাত্রী ও ক্রু।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *