এফডিসিতে নতুন প্রযুক্তি আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০১২ সালে থার্টি ফাইভ মিলিমিটার থেকে ডিজিটালে যাত্রা শুরু করে ঢাকার চলচ্চিত্র। কিন্তু এফডিসিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সেই ছোঁয়া লাগে ২০১৪-১৫ সালে এসে। এফডিসির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের আওতায় ওই বছরই প্রথম দেশের বাইরে থেকে উন্নতমানের পাঁচটি সনি এফ-৫৫ ও একটি রেড স্কারলেট ক্যামেরা আসে। একই সঙ্গে পাঁচটি ডিজিটাল এডিটিং মেশিন, একটি কালার গ্রেডিং মেশিন, উন্নতমানের লাইট ও দুটি ক্রেন আনা হয়। ছবির মান বাড়াতে সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরেও একাধিক উন্নত প্রযুক্তির কারিগরি যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে এফডিসিতে।

এ ব্যাপারে এফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রী বড়ুয়া জানান, গত মাসের শেষে জাপান থেকে তিনটি ফুজিনন লেন্স ও কানাডা থেকে ক্রিস্টি কোম্পানির ফোর-কে রেজল্যুশনের অত্যাধুনিক একটি প্রজেক্টর আনা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রজেক্টরটি এফডিসির শব্দ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।  গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেল, প্রজেক্টরটির সহায়তায় ছবি প্রিভিউ, প্রিমিয়ার শো করার জন্য ৫০ আসনবিশিষ্ট একটি ছোট্ট গ্যালারি নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে ওই ভবনে। প্রজেক্টরের ব্যাপারে এফডিসির ক্যামেরা ও লাইট বিভাগের প্রধান মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এই প্রজেক্টরে অত্যাধুনিক সার্ভার সংযোগ করা হয়েছে; যার মধ্যে ভিডিও, অডিও সংরক্ষণ করা যাবে। সেখান থেকে সংরক্ষণ করা কোনো কিছুরই পাইরেসি হওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে ওই কর্মকর্তা জানান, জার্মানির এরি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সামনের মাসের শেষের দিকে নয়টি মাস্টার প্রাইম, ছয়টি আলট্রা প্রাইমের ক্যামেরা লেন্স আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি ফোর-কে রেড ক্যামেরাও আসবে।

পুরো বিষয় নিয়ে এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ বলেন, এফডিসির আধুনিকায়নে আরও অনেক কিছুই করছি আমরা। এফডিসির আধুনিকায়নে সবচেয়ে বড় কাজটি হবে সামনে। এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, এরই মধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এফডিসির ভেতরে মূল ফটকসংলগ্ন পুরোনো এডিটিং মাঠ, এডিটিং ভবন, ৩ ও ৪ নম্বর শুটিং ফ্লোর বাতিল ঘোষণা করেছে। সেখানে ২০১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ তলাবিশিষ্ট এফডিসি কমপ্লেক্স তৈরি হবে। দুটি সিনেপ্লেক্সসহ চলচ্চিত্রবিষয়ক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে সেখানে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সরকারের সবুজ সংকেত পেয়েই এফডিসি কমপ্লেক্স তৈরির বাজেটসহ প্রস্তাবনার সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি মন্ত্রণালয়ে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। ভবনের নকশাও তৈরি করা হয়েছে। এফডিসিতে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপনে চলচ্চিত্রের জন্য কল্যাণ হলেও তার ব্যবহারে দক্ষ জনবল নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা বলেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার। তিনি বলেন, যেসব কারিগরি যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে, তা পৃথিবীসেরা। তবে এসব যন্ত্রপাতি সঠিক ব্যবহারের জন্য দক্ষ লোকবল জরুরি। আমরা চাই বিদেশ থেকে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এনে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তোলা হোক।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *