একই পরিবারের তিন জনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা।।

৭১বিডি২৪ডটকম । বিশেষ প্রতিবেদক, মু.নজরুল ইসলাম:


মামলা


পটুয়াখালী: পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের একই পরিবারের বাবা মা এবং ছেলেসহ মোট তিন জনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের চার ধারায় আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। মামলা সুত্রেও মামলার বাদী তানিয়ার কাছ থেকে জানাযায়,বিগত২৮/০২/২০১৫ইংতারিখ পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের ইব্রাহিম খানের পুএ মো:কামাল খানের সাথে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার শাখারিয়া গ্রামের সফিজদ্দিন গাজীর কন্যা মোসা:তানিয়া আক্তারের সাথে সামাজিক,ধর্মীয় ও রাষ্টীয় নিয়মানুযায়ী দেরলক্ষ টাকার দেন মোহরে দুই পরিবারের সম্যতিতে বিবাহ কাজ সম্পন্ন হয়।বিবাহের ছয় মাস পর তানিয়ার স্বামী কামাল ও শশুর ইব্রাহীম খান তার দেবরকে সংসাররে সচ্ছলতা ফেরাতে বিদেশে পাঠাবে বলে তানিয়াকে তার বাবার কাছ থেকে একলক্ষ টাকার সহযোগিতার কথা বলতে বলে, তাদের কথা অনুযায়ী টাকার কথা বাবা সফিজদ্দিন গাজীকে জানালে, বাবা মেয়ের সংসারের সুখের আশায় তানিয়ার মুখ স্বামীর বাড়িতে বড় রাখার জন্য কষ্ট হলেও পুরো একলক্ষ টাকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মেয়ের কাছে টাকা তুলে দেন। তানিয়ার বাবার বাড়ির এই টাকার অপব্যবহার না করে যথা সময়ে তানিয়ার দেবর বিদেশে যায়।এই সহযোগিতা যেন তানিয়ার জীবনের কাল হয়ে দাড়াল,দেবর বিদেশে যাওয়ার তিন মাস পর থেকেই স্বামী কামাল খান বিদেশে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পালাক্রমে তানিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে তিনলক্ষ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়,তানিয়া আনতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় স্বামীর সংসারের সব সদস্য কর্তৃক শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন।তানিয়ার গর্ভবতী সময়ের অসুস্হতার সুযোগে সুস্হ হওয়ার ঔষধ বলে গর্ভপাতের ঔষধ খাইয়ে স্বামী টাকার নেশায় তানিয়ার পাঁচ মাসের গর্ভ কৌশলে নষ্ট করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। শারীরিক নির্যাতনে মুখ ঘরের খুঁটির সাথে পিটিয়ে দুটি দাঁতও ভেঙ্গে ফেলে।এত নির্যাতনের পরও বাঙালী নারীর একবার বিয়েতে সাচ্ছ্যন্দ হওয়ায় আশায় স্বামী,শশুড়-শশুড়ী কে নিয়ে ০২/১২/২০১৬ইং তারিখ বিকাল ৩টার দিকে বাবার বাড়ি পৌছায়। আমাদের প্রাথমিক অতিথি আপ্যায়ণ শেষে সবার সামনেই স্বামীকে বিদেশে পাঠাতে বাবার কাছে তিনলক্ষ টাকা চাইলে বাবা সংসারের করুন অবস্হা বলে তার অসম্ভব বাক্য বললে,আমার স্বামী রেগে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আর উচ্চ স্বরে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে যেদিন তিনলক্ষ টাকা নিয়ে যেতে পারবি সেদিন আমার বাড়ি যাবি নছেৎ যাওয়ার দরকার নেই।কোন কথা না বলে তার স্বামীর পেছনে -পেছনে শশুড়-শাশুড়ীও চলে যায়।এরপর তার স্বামীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে একই দাবীর কথা জানান।বাধ্য হয়ে০৪/১২/১৬ইং তারিখে মোসাঃতানিয়া আক্তার বাদী হয়ে স্বামী কামাল খান পিতা ইব্রাহিম খান, শশুর ইব্রাহিম খান পিতা জয়নাল খান,শাশুরী মালেকা বেগম স্বামী ইব্রাহিম খানসহ মোট তিন জনকে আসামী করে আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের চার ধারায় মামলা করে। পরে মামলার ২নং আসামি মোঃইব্রাহিম খান ও ৩নং আসামি মালেকা বেগমকে ০৪/১২/ ২০১৬ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন এবং ১নং আসামী কামাল খানের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন।০৯/০১/২০১৭ইং তারিখ ২নংও ৩নং আসামী আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন পান আর ১নং আসামীকে গ্রেপ্তার করার জন্য ওয়ারেন্ট পটুয়াখলী সদর থানায় পাঠান। এবিষয়ে পটুয়াখলী সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃতরিকুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *