উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আনসার ও ভিডিপি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার – প্রধানমন্ত্রী

৭১বিডি২৪ডটকম | অনলাইন ডেস্ক;


 প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি

জনগণের নিরাপত্তা বিধানে সততা, শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৭তম জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মযাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ত হবার আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের ভেতরে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় বিশেষ ভূমিকা আপনারা রাখবেন, সেটাই আমরা চাই।…যেন আমাদের ছেলে-মেয়েরা মাদকাশক্তি এবং জঙ্গিবাদে না জড়ায় এ ব্যাপারে আপনাদের একটা ভূমিকা রাখতে হবে।’

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মাটি ও মানুষের বাহিনী হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি প্রয়োজনে সরকারের বিশ্বস্ত হিসেবে এ বাহিনী বারবার উৎকৃষ্ট প্রমাণ রেখেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাতির প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

বিগত নির্বাচন ও বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময়কার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও জনগণের জানমাল রক্ষায় বিরাট দায়িত্ব পালন করেছে আনসার ও ভিডিপি। বিশেষ করে রেল রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।

তিনি বলেন, আপনারা মহাসড়কে নাশকতা রোধ থেকে শুরু করে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে মহান ভূমিকা রেখেছেন, জাতিকে রক্ষা করেছেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। সেজন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন কী করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের পাশে দাঁড়াবেন এটাই প্রত্যাশা। আপনারা আনসার ও ভিডিপিগণ সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

ব্যাটালিয়ন আনসারদের চাকরি নয় থেকে ছয় বছরের পূর্ণতা সাপেক্ষে স্থায়ী করার খসড়া আইনটি অনুমোদন দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে আইনটা হয়ে যাবে। আপনারা ছয় বছরে স্থায়ীত্ব পাবেন। কেবিনেটে অনুমোদন হয়ে গেছে। ইনশাল্লাহ আমরা পাস করে দেব।

আনসার-ভিডিপিকে ‘মাটি ও মানুষের বাহিনী’ হিসাবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি প্রয়োজনে সরকারের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে এ বাহিনী বার বার উৎকৃষ্ট প্রমাণ রেখেছে।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের আম্রকাননে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১২ জন আনসার সদস্যের গার্ড অফ অনার দেওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্ববৃহৎ ও সুশৃঙ্খল এ বাহিনী  প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের প্রয়োজনে সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে এ বাহিনীর স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তাদের কাছে রক্ষিত ৪০ হাজার থ্রি নট থ্রি রাইফেলই ছিল, সে রাইফেলই মুক্তিযুদ্ধে মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন রজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতা প্রতিরোধে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা ‘বিরাট’ ভূমিকা পালন করেন বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসম্পদকে কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলা এ বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর সদস্যগণ বর্তমানে যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানসম্মত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমি এটা জেনে অত্যন্ত আনন্দিত যে, সাম্প্রতিক সময়ে এ বাহিনীর কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং আনরার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান আনসার একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্র্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সফিপুর আনসার একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৭তম জাতীয় সমাবেশের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহসান খান এবং প্যারেড কমান্ডান্ট আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এ সময় সরকারপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন।

কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের জন্য আনসার সদস্যদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, খুলনা ও রাঙামাটিতে আনসার ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর কমপ্লেক্স ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি কেক কাটেন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন ছাড়াও নাটিকার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, যৌতুক, বাল্য বিবাহ, সামাজিক কুসংস্কার, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় সর্ম্পকে তুলে ধরা হয়।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *