ঈদে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে যাত্রীর চাপ কমাতে স্পেশাল ব্যবস্থা

বরিশাল :

প্রতিবছর ঈদ-উল ফিতর আর ঈদ-উল আযহার ছুটিকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে মানুষ।

রাজধানী ঢাকা থেকে বরিশাল ও আশপাশের জেলার মানুষ স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নৌ ও সড়কপথে কতোই না ঝক্কি-ঝামেলা করে আসতে হয়।

ঢাকা থেকে দক্ষিনাঞ্চলের ২৮ টির রুটের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথকে নিরাপদ হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে। তাই এ অঞ্চলের মানুষ লঞ্চেই যাতায়াত বেশি করায় ঈদে-কোরবানীতেও যাত্রীর চাপ বেশি থাকে।

যুগের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে নিত্যনতুন বিলাসবহুল বৃহৎ আকারের লঞ্চ যুক্ত হচ্ছে এ রুটের নৌ-বহরে।

রাত্রিকালীন লঞ্চ সার্ভিসের পাশাপাশি, দিবাসার্ভিসে জাহাজ, বিলাশবহুল না হলেও এসি নন এসি বাস সার্ভিস, আকাশপথে নিয়মিত বিমান চলাচল তো থাকছেই।

মুলত এসব কারনেই দিনে দিনে যাত্রীদের ভোগান্তি যেমন কমছে তেমনি কমছে সংকট শব্দটির অর্থ।

সূত্রমতে, বরিশাল-ঢাকা রুটে এ বছর প্রথম সবচাইতে বেশি যাত্রীবাহি লঞ্চ (রাত্রিকালীন) বহরে যুক্ত রয়েছে। এবারে ঈদে মোট বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ১৭ টি লঞ্চ সরাসরি ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহন করবে। এরমধ্যে পারাবত কোম্পানির ৫ টি, সুন্দরবন কোম্পানির ৩ টি, সুরভী কোম্পানির ৩ টি, কীর্তনখোলার ২ টি, টিপুর ১ টি, ফারহানের ১ টি, কালামখানের ১টি, দীপরাজের ১ টি। দিবাসার্ভিসে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের ২ টি জাহাজ এ রুটে চলাচল করবে।

এছাড়া বরিশাল চাঁদপুর ও ফতুল্লা ভায়া রেখে সুন্দরবন, ফারহান, পূবালীসহ ৪ টি লঞ্চ চলাচল করার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি রাত্রিকালীন সরকারী জাহাজ সার্ভিসে বিআইডব্লিউটিসি’র পিএস মাহসুদ, অষ্ট্রিজ, লেপচা, নামে ৩ টি রকেট ও নতুন সংযুক্ত এমভি মধুমতি, এমভি বাঙালীসহ ৫ টি জাহাজ চলাচল করার কথা রয়েছে।

এদিকে এবার বরিশাল-ঢাকা সড়কপথে ঈগল, হানিফ, সাকুরা, গোল্ডেনলাইন, সোনারতরী, মেঘনাসহ প্রায় ডজনখানিক পরিবহন যাত্রীসেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি মাওয়া-বরিশাল রুটে বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিস তো থাকছেই। তবে নতুন করে যাত্রীসেবায় বরিশাল-ঢাকা সড়কপথে ডিপজল পরিবহনের এসি বাস সার্ভিস চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

আকাশপথে প্রথমবারের মতো নভো এয়ার, ইউএস বাংলা ও বাংলাদেশ বিমান একত্রে নিয়মানুযায়ী তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করবেন। প্রয়োজনে ইউএস বাংলা তার ফ্লাইট বাড়াতে পারে।

একসাথে এতো সার্ভিসের ফলে এবারে যেমন যাত্রীর চাপ ভাগ হয়ে যাওয়ার আশা করছেন লঞ্চ মালিকরা, তেমনি আবার ঈদের মাত্র কয়েকদিন পরেই স্কুলে পড়–য়া বাচ্চাদের মিডটার্ম পরীক্ষা শুরু হওয়ায় অনেকেই এ ঈদে বাড়ি আসতে পারবেন না বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে সুরভী গ্রুপ অফ কোম্পানির পরিচালক রেজিন উল কবির বলেন, এবারের ঈদে সুরভী কোম্পানির বহরে সুরভী-৯, সুন্দরবন কোম্পানির সুন্দরবন-১০ ও পারাবত কোম্পানির পারাবত-১২ নামের তিনটি বিশাল ও বিলাসবহুল লঞ্চ থাকছে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে।

এরফলে এবারে সর্বোচ্চ ১৯ টি লঞ্চ বরিশাল-ঢাকা রুটে সরাসরি যাত্রীসেবা প্রদান করবে। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ, দিবাসার্ভিস, সড়কপথে নতুন নতুন পরিবহন ও নিয়মিত ৩ টি বিমানের ফ্লাইট থাকায় যাত্রীদের চাপ তেমন একটা লক্ষ করা যাবে না।

পাশাপাশি যাত্রীর চাপ কমে যাওয়ার পেছনে আরো একটি বড়ো কারন হচ্ছে বাচ্চাদের ঈদের পরই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অনেকেই ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে আসবে না।

তারপরও স্পেশাল সার্ভিসের শেষ কয়েকদিনে প্রতিদিন নৌ-পথে বরিশালে প্রায় ১ লাখ করে যাত্রী আনা হবে বলে ধারনা করছেণ তিনি।

এদিকে যাত্রী-কম বেশি যাই হোক বরিশাল নৌ-বন্দর ও এর আশপাশের সার্বিক নিরাপত্তাসহ যাত্রীদের শতভাগ সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি স্পেশাল সার্ভিসের আগেই নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কতৃপক্ষ।

একই কথা জানালেন কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের সত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু। তিনি বলেন, এ বছর অন্য সব সময়ের থেকে বেশি লঞ্চ থাকবে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে। বহরে থাকবে তিনটি কোম্পানির সবচাইতে বড় ও আধুনিক নৌযান। যার কারনে লঞ্চ প্রতি যাত্রীর চাপ কমে যাবে। আবার দিবাসার্ভিস, সরকারী রকেট সার্ভিস, সড়কপথ ও আকাশপথের সুযোগ সুবিধা বাড়ার কারন তো থাকছেই।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *