ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর সুনামি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৪

:: ৭১বিডি২৪ডটকম :: আন্তর্জাতিক  ডেস্ক ::


ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর সুনামি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৪


ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তীতে আঘাত হানা সুনামিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৮৪ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আরও সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অস্থায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ভূমিকম্পের পর ১০ ফুট উঁচু ঢেউ সুলাওয়াসি দ্বীপের পালু শহরকে ভাসিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাহাড়সম উঁচু ঢেউ যখন উপকূলে আঘাত হানে তখন ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’ উপলক্ষ্যে অনেকেই সৈকতে জড় হয়েছিলেন। যাদের বেশিরভাগই নিজেদের প্রাণ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কেউ কেউ উঁচু গাছে চড়ে নিজেদের রক্ষা করেছেন।

শনিবার সমুদ্র তট থেকে অনেকগুলো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এদিন সকালেও পরাঘাতে সুলাওয়াসি দ্বীপ একাধিকবার কেঁপে উঠেছে।

জাকার্তায় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি’র মুখপাত্র সুতোপো পুরও নুগরোহো বলেন, “গতকাল ভূমিকম্পের পর যখন সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় তখনও লোকজন সৈকতে তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই প্রকাণ্ড ঢেউ যখন উপকূলে আছড়ে পড়ে তখন তারা আর দৌড়ে নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি।”

পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় সুলাওয়াসি দ্বীপের পালু শহরের সৈকতে শত শত মানুষ শহরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বিচ ফেস্টিভ্যালের’ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে ওই ফেস্টিভ্যাল শুরু হওয়ার কথা ছিল।

ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ‘অত্যন্ত মারাত্মক’ বর্ণনা করে নুগরোহো বলেন, পালুর বেশিরভাগ বাড়িঘর, হাসপাতাল, শপিংমল ও হোটেল ধসে গেছে। সুনামিতে একটি সেতু ভেঙ্গে ভেসে গেছে এবং ভূমিধসে পালুর প্রধান মহাসড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ব সংস্থা বিএমকেজি ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করলেও ৩৪ মিনিট পর তা তুলে নেয় বলে জানায় রয়টার্স।

যে কারণে দেশ জুড়ে সংস্থাটির কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যে সময়ে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিলেন ওই সময়ের মধ্যেই তা উপকূলে আঘাত হেনেছে।

ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে পালু শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান।

রাজধানী থেকে ত্রাণ বোঝাই কয়েকটি কার্গো উড়োজাহাজ পালু শহরে রওয়ানা হয়েছে বলে জানান দেশটির প্রধান নিরাপত্তামন্ত্রী।

রানওয়ে এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পালু শহরের বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ত্রাণবাহী উড়োজাহাজগুলো যেন অবতরণ করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার আগে ভোরের দিকে একটি অপেক্ষাকৃত কম শক্তির ভূমিকম্পে পালুসহ আশেপাশের অঞ্চল কেঁপে উঠেছিল।

গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার লমবক দ্বীপে সিরিজ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৫ আগস্টের ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশটিতে ৪৬০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। ভূমিকম্পপ্রবণ এই দেশে ২০০৪ সালে ঘটে ভয়াবহ সুনামির ঘটনা। সুমাত্রায় ঘটে যাওয়া ওই দুর্যোগে অন্তত ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ছিল ইন্দোনেশীয় নাগরিক।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *