শিরোনাম :
গলাচিপায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার গলাচিপায় আদালতের স্থিতি অবস্থা অমান্য করে বালু ভরাট পাবনায় ১০ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ৮৯ লক্ষ টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে দিনাজপুরে “গার্লস অফ হেভেন”র ১০ হাজার সদস্যের আত্মপ্রকাশ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরে সেনাবাহিনীর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ গলাচিপায় র‌্যাবের অভিযানে দুই মানবপাচারকারী গ্রেফতার দেশের বাজারে নতুন ফোন Infinix Note 7 গলাচিপায় শুভসংঘের আয়োজনে অসহায় ২০ শিক্ষার্থীকের আর্থিক সহায়তা গলাচিপায় মৎস্য অবমুক্ত করণ কার্যক্রমের শুভ উদ্ভোধন পাবনা পৌরসভায় ৩ মুক্তিযোদ্ধা’র নামকরনে ৩ টি সড়কের উদ্বোধন
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ বোর্ড :
দেশের সকল বিভাগের জেলা, উপজেলা, থানা পর্যায়ে প্রতিনিধি আবশ্যক আগ্রহী প্রার্থীগন আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। মোবাইল নম্বরঃ +8801618833566, ইমেইলঃ 71bd24@gmail.com

আজ বিশ্ব বাবা দিবস, জানেন কি এ দিবসের ইতিহাস?

স্টাফ রিপোর্টার; / ১৮৮২ শেয়ার
আপডেটের সময়ঃ রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬

(‘বাবা, কত দিন কত দিন দেখি না তোমায়,কেউ বলে না তোমার মতো কোথায় খোকা!ওরে বুকে আয়…’)

প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী জেমসের কালজয়ী এ গানের প্রতিটি অক্ষরে অটুট গাঁথুনিতে জড়িয়ে আছে বাবার প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং বাবার ভালোবাসা বঞ্চিত চিরন্তন আকাক্ষার প্রতিচ্ছবি।

বাবা মানে একটু শাসন, অনেক ভালোবাসা। বাবা মানে একটু কঠিন, মাথার ওপর ছায়া। বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ, আর একরাশ নিরাপত্তা।

হ্যাঁ, বাবারা এমনি হন। রাগ, শাসন আর রাশভারী চেহারার পেছনে এ মানুষটির যে কোমল হৃদয় তা মাতৃ হৃদয়ের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।

একজন বাবার শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হচ্ছে তার সন্তান। বাবার প্রতি সব সন্তানের মনে থাকে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ। কিন্তু পরিবারের পরিবেশগত কারণে ক্ষেত্রবিশেষ এই শ্রদ্ধা কখনো পায় না পূর্ণ মর্যাদা।

বাবা আমাদের যতটুকু শাসন করেন তার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসেন। মাঝে মধ্যে বাবার শাসনে আমরা বিরক্ত হই ঠিকই, কিন্তু চোখ বন্ধ করে শুধু এক মুহূর্তের জন্য ভাবুন মাথার ওপর বাবা নামের ছায়াটি আর নেই! দেখবেন মাথার দূরের ওই আকাশকে মনে হবে ওটা আপনার মাথার ওপরেই রয়েছে।

আজ ১৯ জুন ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। যদিও বাবাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে কোনো বিশেষ সময়ের প্রয়োজন হয় না, তবুও আজ বাবা দিবসে বিশ্বের সব বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটি বোঝানোর জন্যই বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে পিতৃ দিবস পালন শুরু হয়। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এ দিনটি প্রথম পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথায়ও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। তার মনে হয়, যেখানে মাকে নিয়ে দিবস পালিত হচ্ছে, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি নিজ উদ্যোগেই ১৯ জুন ১৯১০ সাল থেকে বাবা দিবস পালন শুরু করেন। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে পিতৃ দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করতে একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার পিতৃ দিবস হিসেবে পালিত হয়। এভাবেই বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বাবার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমে পালিত হয় দিবসটি।

যদিও আগের দিনে বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক ছিল খানিকটা দূরত্ব, খানিকটা সঙ্কোচ ও খানিকটা ভীতি মেশানো শ্রদ্ধা। তবে সেই অবস্থা এখন আর নেই বললেই চলে। এখনকার সময়ে অনেক বাবাই সন্তানদের বন্ধুর মতো, একদম কাছের মানুষ। স্নেহশীল। কর্তব্যপরায়ণ।

ডাক যাই হোক না কেন, রক্তের সম্পর্ক বদলায় না। বদলায় না এই ডাকের আবেগও। এই ডাকের মধ্যেই জড়িয়ে থাকে পৃথিবীর সব আবেগ ও ভালোবাসা।

আসুন এই ‘বাবা দিবসে’ আমারা সবাই বাবাকে বলি, ‘বাবা, খুব ভালোবাসি তোমাকে, যেভাবে পাশে আছো সেভাবেই থেকো চিরদিন’।

আর যার বাবা বেঁচে নেই তারাও একবার হলেও ভাবুন বাবাকে। বাবার প্রতি এত ভালোবাসা কিভাবে প্রদর্শন করব? কাকে সেই প্রিয় ‘বাবা’ বলে ডাকবে? অগণিত ভাগ্যবিড়ম্বিতের এ আক্ষেপ অন্তরের, এই জ্বালা চিরকালের।

জীবন চিরায়ত বহমান। সব হারানো কিংবা শোক-তাপের ঊর্ধ্বেও জীবন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ সত্যটাই চিরন্তন। ভালোবাসার বহতার কথা বলেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি তার বাবার শেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রার্থনায় বলেছিলেন, ‘বাবা আলোকের ন্যায়, সমীরণের ন্যায়, তাহা শিশুকাল হইতে আমাদিগকে নিয়ত রা করিয়াছে, কিন্তু তাহার মূল্য কেহ কখনো চাহে নাই!’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ