আজ নয়, রোববার থেকে সিটিং সার্ভিসের ‘চিটিং’ বন্ধ

৭১বিডি২৪ডটকম । ঢাকা:


সিটিং সার্ভিসরাজধানীতে সিটিং সার্ভিস, গেটলক ও স্পেশাল সার্ভিসের নামে চলাচল করা বাসগুলো শনিবার থেকে বন্ধের পূর্বঘোষণা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। চলছে আগের মত এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

আগামীকাল রোববার (১৫ এপ্রিল) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

একইদিন সারাদেশে অ্যাঙ্গেল বাম্পার, গাড়ির বর্ধিতাংশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির অভিযান শুরু হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৮টায় তেজগাঁ এলাকায় বাম্পার অ্যাঙ্গেল বিরোধী অভিযান পরিদশর্ন করবেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরিবহন মালিক সংগঠনের ভিজিলেন্স টিম নামবে বাস চলাচল মনিটরিংয়ে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ  খান বলেন, শনিবার বিকেল ৪টায় তারা বিআরটিএতে বৈঠক করবেন। ১৬ এপ্রিল থেকে অ্যাকশনে যাবেন। ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিলো। রোববার থেকে টাউন সার্ভিসে কোন বাস আর সিটিংয়ে চলবে না। বিভিন্ন পরিবহনের বাস-মিনিবাস সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় চলবে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার পহেলা বৈশাখ থাকায় শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামীকাল থেকে এর কোনো হেরফের হবে না।

এদিকে বিআরটিএর একজন পরিচালক জানান, হালকা বাম্পারের অনুমোদন আছে, কিন্তু বেশির ভাগ গাড়ি বিশাল আকারের বাম্পার লাগিয়ে চলছে। এ কারণে ‘অঅনুমোদিত বাম্পারের’ বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে বিআরটিএ। সারাদেশে  অভিযানের  জন্য সব জেলা প্রশাসন, মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশকে চিঠি দিয়েছিলো বিআরটিএ।

এর আগে, আজ সকাল থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। কেউ কেউ বলেন আজ থেকে এ সার্ভিস বন্ধ, আবার কেউ কেউ বলেন আজকের পর থেকে। এ নিয়ে যাত্রী, গাড়িচালক ও হেলপারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা গেছে। ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা।

গত ৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সার্ভিস বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি। ওইদিন সমিতির পক্ষ থেকে বিআরটিএ নির্ধারিত চার্ট অনুসরণ করে ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয় গণপরিবহনগুলোকে।

এর আগে, পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সভায় আরও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান খন্দকার এনায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, সভায় গাড়িতে লাগানো ট্রাকের বাম্পার কিংবা অ্যাঙ্গেলও খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া রঙচটা, রংবিহীন ও জরাজীর্ণ গাড়িগুলো দৃষ্টিনন্দন ও মেরামত করে রাস্তায় চালাতে হবে।

সিটিং সার্ভিস বন্ধ ঘোষণার পরদিন ৫ এপ্রিল (বুধবার) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেশি ভাড়া নেয়া, লাইসেন্সবিহীন চালক ও মিটারবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে বিআরটিএ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, সিটিং সার্ভিসের বিষয়টি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে এতে মালিক ও শ্রমিক উভয়ই খুশি। বাস মালিকদের সরকারের নির্ধারণ করা ভাড়াই নিতে হবে। আর কেউ যদি তা অমান্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলে ভাড়া কমবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভাড়া যেটা আছে সেটাই নেবে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া যেন না নিতে পারে সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

অপরদিকে, ঢাকা মহানগরীতে সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যাত্রী ভোগান্তি লাঘবে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয় ও অভিনন্দনযোগ্য।

গায়ে ‘সিটিং সার্ভিস’ লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসেই আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। নিয়ম থাকলেও যাত্রীদের টিকেট দেয়া হয় না; আদায় করা হয় বাড়তি ভাড়া। এ নিয়ে যাত্রীদের বাজে আচরণেরও মুখোমুখি হতে হয় অনেক সময়। তাই বহুদিন ধরেই সিটিং সার্ভিস বাসের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছে রাজধানীবাসী।

লোকাল বাস বলতে যেসব বাস দাঁড়ানো যাত্রী নেয়, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায়, এমন বাসকে বোঝায়। এর ভাড়া তুলনামূলক কম। আর গেটলক সিটিং বাস নির্দিষ্ট আসন পূর্ণ হয়ে গেলে আর যাত্রী নেয় না, নির্ধারিত গন্তব্যের আগে থামে না বা পথিমধ্যে যত্রতত্র যাত্রী তোলে না। গেটলক সিটিং বাসেরও আবার রয়েছে রকমফের। কোনো পরিবহনের নামের নিচে ‘কম স্টপেজ’ আবার কোনোটির নিচে ‘কাউন্টার সার্ভিস’ লেখা।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *