আইজিপির নির্দেশে পুলিশের তদন্ত ‘নির্যাতনেই গৃহবধূ পাখির মৃত্যু’

বরিশাল :

বিভিন্ন দৈনিকে বরিশালে যৌতুকের বলি তিন সন্তানের জননী শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত শিরিন আক্তার পাখির লাশের ময়নাতদন্ত না করে দাফন করার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল ইসলাম।

এ নির্দেশনা পেয়ে জেলার আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ তদন্ত করে স্বামীর নির্যাতনেই শিরিন আক্তার পাখির মৃত্যু হওয়ার সত্যতা পেয়েছেন।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিসম্প্রতি পুলিশ মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। তার নির্দেশ পেয়ে দীর্ঘ তদন্তে স্বামীর নির্যাতনে পাখি বেগমের মৃত্যু হওয়ার সত্যতাসহ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সবমিলিয়ে মঙ্গলবার সকালে আইজিপি বরাবরে তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।  সূত্রমতে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে ঘাতক খোকন নিখোঁজ রয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের ইউসুফ ফকিরের পুত্র নিহতের ভাই মনির উদ্দিন হাফিজ জানান, তার বোন শিরিন আক্তার পাখিকে গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের পুত্র রুহুল আমিন খোকনের সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে দেয়া হয়।

বিয়ের পরবর্তী সময় যৌতুক হিসেবে খোকন ও তার পরিবারের সদস্যরা মোটা অংকের টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলো। এ টাকা দিতে না পারায় প্রায়ই পাখি বেগমকে মারধর করা হতো।

সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ নিজ বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় পাষন্ড রুহুল আমিন খোকন তার বোন পাখি বেগমকে অমানুষিক নির্যাতন করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্ঠা চালায়।

এসময় বাড়ির লোকজনে গুরুতর আহত গৃহবধূ পাখি বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার (পাখি) অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১৫ এপ্রিল গৃহবধূ শিরিন আক্তার পাখি মৃত্যুবরণ করার পর পরই ঘাতক স্বামী খোকন হাসপাতালে তার স্ত্রীর লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, গৃহবধূর মৃত্যুর পর ওইদিনই ঢাকার শাহবাগ থানায় এস.আই মোস্তাফিজ একটি সাধারণ ডায়েরী করেন (যার নং-৮৬৪)। তিনি লাশের সুরাতাহাল রিপোর্ট তৈরি করলেও রহস্যজনক কারণে লাশের ময়নাতদন্ত করেননি।

নিহতের ভাই মনির উদ্দিন হাফিজ অভিযোগ করেন, এসআই মোস্তাফিজ তাকে ও তার বোনজামাতাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সাদা কাগজে মুচলেকা রেখে লাশ দাফন করার নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিরিন আক্তার পাখির লাশ কালুপাড়া গ্রামের বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়।

এনিয়ে দৈনিক জনকন্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল ইসলাম ঘটনার তদন্তের জন্য আগৈলঝাড়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

Recommended For You

About the Author: HumayrA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *